আজ শুক্রবার| ৩০ জুলাই, ২০২১| ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮

ভোটার আইডি নাই, তাই বয়স্ক ভাতা নাই || ডামুড্যার এ বৃদ্ধা থাকেন ঝুপড়ি ঘরে

রবিবার, ০২ মে ২০২১ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ | 436 বার

ভোটার আইডি নাই, তাই বয়স্ক ভাতা নাই || ডামুড্যার এ বৃদ্ধা থাকেন ঝুপড়ি ঘরে
খাতুন নেছার ছবি।

বয়স একশ ছুঁইছুঁই। ছেলে থেকেও নেই তার। মেয়ে কাছে থাকেন। বিছানায় পড়ে গেছেন। হাটতে পারেনা। স্বামী হারিয়েছে অনেক আগেই। মেয়ে সংসারে থাকে। বয়স ৯৩ বছর। পান না কোন সরকারি সুবিধা। এক বছর বয়স্ক ভাতা পেলেও জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় এখন পাচ্ছেন সেই ভাতাও।

খাতুন নেছা ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বামী মৃত আলী আহমেদ মাল। তার এক ছেলে এক মেয়ে।

স্থানীয়রা বলেন, স্বামীহারা খাতুন নেছা স্বামী মারা যাওয়ার পর পাগল হয়ে যায়। তাকে ঘরে আটকে রাখা হত। সুযোগ পেলে ই ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যায়। আবার ফিরে আসত। এর আগে দীর্ঘ ১৪ বছর পর পটুয়াখালীর রাঙাবালীর থেকে তাকে সাংবাদিকরা উদ্ধার করে এনে পরিবারের কাছে দিয়ে যায়। তখন সরকারি একটি বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেও এখন তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছেলে আছে না থাকার মত পাকিস্তান চলে গেছে ত্রিশ বছর আগে। মায়ের কোন খোঁজ খবর রাখে না। মেয়ের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে ছেলের বউরা থাকে। আর খাতুন নেছা নিয়ে তার মেয়ে সাহার বানু লাড়কি রাখার ঘরে থাকে। বৃষ্টিতে হলে ঘর দিয়ে পানি পরে। তখন ঘুম আর আসতে পারে না তারা। বসে থাকতে হয়।

প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় খাতুন নেসার মেয়ে সাহার বানুর সাথে। তিনি বলেন, আমার মা বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মাথায় সমস্যা হয়। বিভিন্ন সময় তাকে ঘরে আটকে রাখতাম। হঠাৎ একদিন ঘর থেকে কিভাবে যেন বের হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু পাই নি। গত তিন বছর আগে সাংবাদিকের মাধ্যমে মাকে ফিরে পাই। এর পর থেকে মা আমার কাছে থাকে। সাংবাদিকরা যখন এনে দেয় তখন সরকারি ভাবে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয় কিন্তু তার কিছু দিন পরে স্থানীয় মেম্বার তা নিয়ে যায়। এখন আর কিছু পায় না। জাতীয় পরিচয় পত্র করা জন্য চেষ্টা করছি বয়স্ক বিধায় আঙ্গুলের ছাপ ওঠছে না। তাই করতে পারি নি জাতীয় পরিচয় পত্র।

তিনি আরোও বলেন, গরিব মানুষ আমরা। আমার স্বামী কাজ করতে পারে না। ছেলেরা যা দেয় তা দিয়ে চলে সংসার। সরকারি ভাবে কোন ধরনের সহযোগিতা পাই না। আমার স্বামীর একটা ভাতা কার্ড করে দিয়েছে। কিন্তু পাগলীর টা ই হয় না। পাগলীর অনেক সময় অসুস্থ হয় পড়ে। টাকার জন্য চিকিৎসা করতে পারি না। ঘরে রাখে পারি না বারবার প্রস্রাব পায়খানা করে। তাই এই ছোট ঘরে রাখি। মাঝেমধ্যে আমি রাতে ঘুমাই আবার ঘুমাই না। আমার বয়স এখন ৭২ এর ওপরে চলে। আর মায়ের তো এর থেকে বেশি। ইউনিয়ন পরিষদের পরিচয় পত্র রয়েছে কিন্তু তাতে না কি হবে ভাতা। জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে।

সাহার বানু বলেন, মাকে নিয়ে অনেকটা অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছি। এই মায়ের জন্য এই বাড়ি থেকে ওই বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে এনে খাওয়াইছি। ওর থেকে ওর থেকে চাইয়া কাপড় আনছি। সেই কাপড় আমার মায়কে পড়াইছি। এখনও দুই টা কাপড় দিয়ে ই জীবনটা পড়া করে যাচ্ছে। এখন আর যাইও না চাইও না। সরকারি কোন কিছু ই পাই না এক মুঠো চাউলও কেউ দেয় না।

ডামুড্যা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ওবাদুর রহমান বলেন, সরকারি বয়স্ক ও বিধবা ভাতা নিতে হলে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয় পত্র থাকা বাধ্যতা মূলক। এটা না হলে এখন আর অনলাইন করা সম্ভব না। এতে করে তাকে আমরা কো ধরনের সুযোগ প্রদান করতে পারি না।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!