আজ সোমবার| ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১| ৫ আশ্বিন, ১৪২৮

শরীয়তপুর জেলা কারাগার || নামের মিলে লিটন শিকদারের পরিবর্তে লিটন ফরাজীর মুক্তি!

মঙ্গলবার, ০৬ এপ্রিল ২০২১ | ৯:৫৯ অপরাহ্ণ | 494 বার

শরীয়তপুর জেলা কারাগার || নামের মিলে লিটন শিকদারের পরিবর্তে লিটন ফরাজীর মুক্তি!
কারাগারের ছবি

নামের মিলে থাকায় এবার গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানো নয়, বরং জামিন পাওয়া আসামির পরিবর্তে আরেক বন্দিকে ছড়ে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে সোমবার ছাড়া পাওয়ার পর থেকে উধাও ওই বন্দি। এ ঘটনা জানাজানি হয় আসলে যার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তার স্বজনেরা অভিযোগের করার পর। এ ঘটনায় এক কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে জেলার ও ডেপুটি জেলারকে। ঘটনার তদন্তে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।

কারাগার সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যায় একটি মামলার আসামি লিটন শিকদারের পরিবর্তে শরীয়তপুর কারাগার থেকে ছাড়া পান আরেক আসামি লিটন ফরাজী। ফরাজী বেড়িয়ে যাওয়ার পর পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর গোসাইরহাট উপজেলার মদিনা সাইকেল স্টোর থেকে ব্যাটারি চুরির মামলার আসামি লিটন ফরাজী ও লিটন শিকদার। তারা খুলনা ও রাজবাড়ীতে হওয়া আরও দুটি মামলার আসামি। তবে ওই দুই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিটন ফরাজীর বাড়ি রবিশালের উজিরপুর উপজেলার দামুরকাঠি গ্রামে। আর লিটন শিকদারের বাড়ি খুলনার খালিশপুর এলাকায়।

শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত রোববার গোসাইরহাট থানার ব্যাটারি চুরির মামলায় ফরাজী ও শিকদারকে জামিন দেয়। এর আগে খুলনা ও রাজবাড়ীর মামলাতেও জামিনে ছিলেন লিটন শিকদার। তবে সেই দুই মামলায় জামিন পাননি লিটন ফরাজী।

ব্যাটারি চুরির মামলার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছলে ভুল করে কর্তৃপক্ষ। তারা রোববার সন্ধ্যায় লিটন শিকদারের পরিবর্তে মুক্তি দেয় লিটন ফরাজীকে। লিটন শিকদার মুক্তি না পাওয়ায় স্বজনেরা বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর সোমবার রাতে মুক্তি পান সবগুলো মামলায় জামিন পাওয়া লিটন শিকদার।

শরীয়তপুরের জেল সুপার গোলাম হোসেন জানায়, ঘটনা তদন্তে বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ফরিদপুরের জেল সুপার ও ঝালকাঠির জেলার।তিনি বলেন, ‘দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই হাজতিদের মুক্তি দেয়া হয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষী যুক্ত থাকেন। ‘তাই ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী ইব্রাহীমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর জেলার আমীরুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।’


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!