আজ মঙ্গলবার| ২২ জুন, ২০২১| ৮ আষাঢ়, ১৪২৮

শরীয়তপুরের সখিপুর || আসামী মানিক মৃধা, জেলে মানিক হাওলাদার

রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ | 517 বার

শরীয়তপুরের সখিপুর || আসামী মানিক মৃধা, জেলে মানিক হাওলাদার

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জে নামের মিল থাকায় তিন মাস ধরে জেলে মানিক হাওলাদার (৪২)। মানিক হাওলাদার মাদক মামলা দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হয়ে জেলে রয়েছেন। তারা গ্রেফতারের ব্যাখা তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই শামসুর রহমান গত বছরের ডিসেম্বরে ছবির সাথে মিল আছে এমন টি দাবী করে শরীয়তপুর জেল থেকে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলে নেওয়া হয়।

আটককৃত মানিক হাওলাদার (৪২) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের আলম চান বেপারী কান্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে। গত আট মাস আট দিন ধরে জেলে রয়েছেন। পরিবারের দাবী বাবার নামের সাথে মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য দিকে মাদক মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মানিক মিয়া একই ইউনিয়নের ব্যাপারী কান্দি গ্রামের ইব্রাহীম মৃধা ছেলে।

সখিপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর একটি মাদক মামলার চার বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মানিক মিয়া, পিতাঃ নজরুল হাওলাদার, গ্রামঃ ব্যাপারী কান্দি নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা আসে সখিপুর থানায়। এর পরে মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। আর দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মানিক মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের একটি এলাকা থেকে ফেনসিডিলসহ চার ব্যক্তিকে আটক করে র্যাব। তার প‌রিপে‌ক্ষি‌তে র্যাবের পক্ষ থেকে সলংগা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মো. মানিক মিয়া সহ চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। আটক পর তিনি তার বাবার নাম পাল্টে নজরুল হাওলাদার পরিচয় দেন। সলংগা থানার পুলিশ মানিকের দেয়া নাম ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সিরাজগঞ্জ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই চার আসামিকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে মো. মানিক মিয়া পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুলিশ গ্রেফতার করে গত বছরের ২৮ নভেম্বর মানিক মিয়ার বদলে মানিক হাওলাদারকে নিয়ে যায়। তার প‌রিপে‌ক্ষি‌তে গত বছরের ই ৩০ নভেম্বর শরীয়তপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করেন। পাশাপাশি প্রকৃত আসামী নয় সেই পক্ষে কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত বিষয় টি আমলে নিয়ে এএসআই শামসুল রহমান কে আদালতে উপস্থিত থেকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দাশ দেন। তিনি গত ৯ ডিসেম্বর উপস্থিত থেকে তার লিখিত ব্যাখ্যা দেন।

আদালতে এএসআই শামসুল রহমান লিখেন গ্রেফতারি পরোয়ানায় আসামি হিসেবে লেখা নামের সঙ্গ মিলে যাওয়ায় এবং এই নামে অন্য কোনো ব্যক্তি না থাকায় তিনি মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে তার যে আসামির ছবি সংরক্ষিত আছে তার সাথে বর্তমানে কারাবন্দি ব্যক্তিকে মিলিয়ে দেখার অনুরোধ জানান পুলিশ সদস্য। পরে আদালতের নির্দেশে শরীয়তপুর কারাগার থেকে মানিক হাওলাদারকে সিরাজগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ঢভাবের সংসার নদীর পাড়ের মানুষ আমরা। আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরে আমাদের সংসার চলে। গত তিন মাস আমরা অনেক কষ্টে আছি। বিনা দোষে আমার স্বামী কে গ্রেফতার করছেন পুলিশ। এখন আমরা কি করবো বুজতেছি না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমি হাইকোর্টে আবেদন করি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়া এবং এ ঘটনায় মানিক হাওলাদারকে ক্ষতিপূরণ দাবী করেছি।

পালাতক আসামীর মানিক মিয়ার বাবা ইব্রাহীম মৃধা বলেন, দন্ড প্রাপ্ত মাদক মামলার আসামী আমার ছেলে মানিক মিয়া কিন্তু নামের মিল তাকায় মানিক হাওলাদার কে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি কয়েকবার আদালতে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার কথা আমলে নেয় নি।

মানিক হাওলাদারে আইনজীবী পার্থ সারথী রায় বলেন, আমি মানিক মিয়া ও মানিক হাওলাদার দুই জন ব্যাক্তি বের করে দিয়েছি। কারোকে গ্রেফতারের আগে পুলিশ কে অবশ্যই যাচাই করে নিতে হয়। সব কিছু বলার পরও পুলিশ শোনেনি মানিক হাওলাদারের কথা। এখন একজনের সাজা আরেকজন খাটছেন। ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন সালমা বেগম। তার পরিপেক্ষিতে আদালত ৩ মার্চ বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচার পতি খায়রুল আলম হাইকোট বেঞ্চে শুনানী হয়েছে। আশারাখি আমার নির্দোষ হব।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা যখন মানিক হাওলাদার কে গ্রেফতার করি তখন আমাদের কাছে কোন ছবি ছিল না। আর তার নাম ও বাবার নাম এক হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান। পরে জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে দুই জন আলাদা ব্যক্তি। প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে এই ব্যপারে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!