আজ সোমবার| ১৮ অক্টোবর, ২০২১| ২ কার্তিক, ১৪২৮

শরীয়তপুরের একের পর এক সংঘর্ষ অব্যহত, গোসাইরহাটে আহত -১২

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০ | ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | 2854 বার

শরীয়তপুরের একের পর এক সংঘর্ষ অব্যহত, গোসাইরহাটে আহত -১২
ফাইল ছবি

করোনার লক ডাউনের মধ্যই শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক সংঘর্ষ অব্যহত রয়েছে। জমি-জমা, লেনদেন, আধিপত্য বিস্তার, বিচার-সালিশ কিংবা ক্ষুদ্র কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষ ঘটছে। আহত হচ্ছে শত শত নারী পুরুষ। লুটপাট-ভাংচুর হচ্ছে ঘরবাড়ি। দায়ের করা হচ্ছে মামলার উপর মামলা।

সর্বশেষ গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে । এ হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, নদীতে মাছ ধরা নিয়ে কুচাইপট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোকা ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পরে রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে খোকা ব্যাপারীর ৮ সমর্থক এবং মোস্তাফিজ সরদারের ৪ সমর্থক আহত হন।

কুচাইপট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোকা ব্যাপারী বলেন, আমার ভাই কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। মোস্তাফিজ সরদার আমার ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। রোববার পরিকল্পিতভাবে দেড় দুই শাতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের পুরান বাড়িতে হামলা চালান তিনি। এ হামলায় আমাদের ৭-৮ জন আহত হয়েছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ সরদার বলেন, নদীতে মাছ ধরা জেলেদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় খোকা ব্যাপারীর সন্ত্রাসীরা আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে ৩-৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নদীতে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এখানও মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে শরীয়তপুরের জাজিরা, শরীয়তপুর সদর, ভেদরগঞ্জ ও সখিপুর থানায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই গুরুতর আহত/জখম হচ্ছে নারী-পুরুষরা, বাড়িঘরে লুটপাট, ভাংচুর চলছে প্রতিটি সংঘর্ষেই। প্রতিনিয়ত এমন সংঘর্ষের ঘটনায় উৎকন্ঠা বিরাজ করছে জেলার সচেতন লোকজনের মাঝে। এসব সংঘর্ষ থামাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!