আজ শুক্রবার| ২০ মে, ২০২২| ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯

সখিপুরে প্রাথমিকের চাকুরী দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করলেন প্রধান শিক্ষক

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৯:১৩ অপরাহ্ণ | 2089 বার

সখিপুরে প্রাথমিকের চাকুরী দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করলেন প্রধান শিক্ষক

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীর প্রলোভেন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ভেদরগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মেজবাহ উদ্দিন মিয়া সখিপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকুরী দেয়ার নাম করে মেজবাহ উদ্দিন মিয়া বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিলেও তাদের কারোই চাকুরী হয়নি। এখন ঐ টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন তিনি। এদিকে একজন প্রধানভেদরগঞ্জে শিক্ষক দ্বারা এমন প্রতারণার ঘটনায় এখন পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কতজনের সাথে তিনি এমন চুক্তি করেছিলেন তার সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

Advertisements

ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে দেশের প্রতিটি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। ১ আগষ্ট থেকে শুরু করে ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত চলে এ আবেদন প্রক্রিয়া। এ সময় ভেদরগঞ্জ উপজেলা থেকেও শত শত চাকুরী প্রত্যাশী অাবেদন করে। শিক্ষক নিয়োগের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১নং সখিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজবাহউদ্দিন মিয়া শুরু করে প্রতারণা। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক উপরস্থ কর্মকর্তা তার আত্মীয় হয় এবং চাকুরী দিতে পারবেন এমন নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন শুরু করেন। আর গ্যারান্টি হিসেবে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র ও ব্যাংকের চেক প্রদান করেন তিনি। কিন্তু গত ২৪ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশের পর এসব চাকুরী প্রত্যাশী কারোই নাম ওঠেনি চুড়ান্ত তালিকায়। এ সময় ঐ সকল চাকুরী প্রত্যাশীরা মেজবাহউদ্দিন মিয়ার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি গড়িমসি শুরু করেন। পরে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য একাধিকবারবার দিন তারিখ ঠিক করেও কারো টাকাই বুঝিয়ে দেননি তিনি। এদিকে চাকুরী না হওয়ার পাশাপাশি টাকা ফেরত না দেয়ায় বিপাক পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো। তাদের অভিযোগ, চাকুরী, বিদ্যালয়, দালালি সহ বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম করে মেজবাহ উদ্দিন মিয়া পুঞ্জিভূত করেছেন সম্পত্তির পাহাড়, গড়েছেন আলিশান বাড়িও।

Advertisements

সখিপুর ইউনিয়নের মাঝি কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ইয়াসিন মিয়া বলেন, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা সহ চাকুরীর শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলে মেজবাহ উদ্দিন মাষ্টার আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা নিছে। কিন্তু আমার চাকুরী হয় নাই। এখন বার বার সময় নিয়েও টাকা দিচ্ছেনা সে। এছাড়া গোসাইরহাট থানার এক লোকের কাছ থেকেও সে টাকা নিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই, আমাদের টাকা ফেরত চাই। আমাদের টাকা নিয়ে সে বাড়ি তুলেছে।

Advertisements

বেপারী কান্দির বাসিন্দা মিলন সরকার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীর সম্পূর্ন নিশ্চয়তা দিয়ে মেজবাহউদ্দিন মাষ্টার আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিল। পরীক্ষার আগে ২লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম, চাকুরী হওয়ার পর বাকী ৩ লক্ষ টাকা দেয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে স্ট্যাম্প ও চেকও আছে। কিন্তু চাকুরীতো হয় নাই বরং টাকাও দিচ্ছেনা। যে চেক দিয়েছেন তার সে একাউন্টেও টাকা নেই। তবে কয়েকদিন আগে পুলিশের চাপে পড়ে আমার পরিচিত অন্য একজনের টাকা সে ফেরত দিয়েছে।

Advertisements

সখিপুর ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাব্বির মাদবর বলেন, আমার এক আত্মীয়র চাকুরীর কথা বলে মেজবাহউদ্দিন মাষ্টার দুই লক্ষ টাকা নিয়েছিল। পরে আমি বহু কষ্টে সে টাকা তুলে দিয়েছি। শুনেছি আরো অনেকের কাছ থেকেই তিনি টাকা নিয়েছিলেন।

Advertisements

তবে অভিযুক্ত মেজবাহউদ্দিন মিয়া বলেন, আমি অন্যজনের প্ররোচনায় এ কাজটি করেছিলাম। আগামী বুধবারের মধ্যে আমি সকলের টাকা ফেরত দিবো। দয়া করে আপনারা এ বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Advertisements

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি ভুক্তোভুগীরা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে, তবে অবশ্যই তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

Advertisements

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব তানভীর আল নাসীফ বলেন, আমি বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে বলেছি।

Advertisements

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তথ্য প্রমান সহ যদি ভুক্তভোগীরা আমার কাছে আবেদন করে, তবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisements
Advertisements

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!