আজ মঙ্গলবার| ২৬ অক্টোবর, ২০২১| ১০ কার্তিক, ১৪২৮

ভেদরগঞ্জে টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করলেন চেয়ারম্যান!!

রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | 9774 বার

ভেদরগঞ্জে টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করলেন চেয়ারম্যান!!

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নে ডীপ টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে। ঐ আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত চাওয়ায় হেনা বেগম নামে এক মহিলাকে বেঁধড়ক মারধর করে গুরতর আহত করেছেন তিনি। হেনা বেগম (৪০) বাওইকান্দির বাসিন্দা প্রবাসী নিজাম মাঝির স্ত্রী। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী হেনা বেগম ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান নাজিম তালুকদার ক্ষমতা দিয়ে থানা পুলিশকে প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ হেনা বেগমের।

কিন্তু চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে মারধর করি নাই। সে আমার মোটরসাইকেল আটকাইছিল। আর টিউবওয়েলের কোন টাকা আমি নেই নাই। হেনা বেগম কেমন মহিলা, আর আমি কেমন লোক সেটা আপনারা এলাকাবাসীর কাছে জানেন।

প্রত্যাক্ষদর্শী পারুল বেগম, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, কয়েকমাস আগে ডীপ টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে হেনা বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় চেয়ারম্যান নাজিম তালুকদার। কিন্তু কোন টিউবওয়েল না দিয়ে পুনরায় ১০ হাজার টাকা দাবি করে সে। এ সময় হেনা বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আগের টাকা ফেরত চায়। এ বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে ব্যাপক বিরোধ সৃষ্ট হয় হেনা বেগমের পরিবারের। পরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হেনা বেগম তার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবার বাড়িতে গেলে রাস্তার পাশে একা পেয়ে হেনা বেগমকে বেঁধড়ক মারধর করে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

কান্না জড়িত ভুক্তভোগী হেনা বেগম বলেন, টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে দুইবার টাকা নেয়ার পর চেয়ারম্যানের আমার কাছে আবার টাকা চায়। আমি টাকা না দেয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মেরে ঝোঁপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ঘুষি মেরে আমার চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে, লাঠি দিয়ে দুই পায়ে ও রানে ব্যাপক পিটিয়েছে। আশেপাশের লোকজন উদ্ধার না করলে চেয়ারম্যান আমাকে মেরেই ফেলতো। ঐদিন আমার বাবা মারা গেছেন, আর ঐদিনই সে আমাকে মেরেছে। আমি তার বিচার চাই।

স্থানীয় সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল মালেক বলেন, সেদিন আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি চেয়ারম্যান হেনা বেগমকে মরতেছে। তখন আমরা হেনা বেগমকে উদ্ধার করেছি। পরে শুনলাম টিউবওয়েলের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত চলছে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!