আজ সোমবার| ১৮ অক্টোবর, ২০২১| ২ কার্তিক, ১৪২৮

ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচারের চেষ্টা || শরীয়তপুরের কিশোরীকে যশোর থেকে উদ্ধার!

বুধবার, ০৯ জুন ২০২১ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ | 523 বার

ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচারের চেষ্টা || শরীয়তপুরের কিশোরীকে যশোর থেকে উদ্ধার!
ফাইল ছবি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার এক কিশোরীকে (১৬) ভারতে পাচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নারী ও শিশু পাচার রোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা মঙ্গলবার যশোরের চাষাড়া এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী সংস্থাটির সেফহোমে রয়েছে। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমে পড়ে ও বিয়ের প্রলোভনে ওই কিশোরী সোমবার শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে পালিয়ে যশোর যায়।

মঙ্গলবার ভোরে তাকে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোরের চাষারা বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেসরকারি সংস্থা অপারেশন জেনারেশনের নারী কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে মহিলা অধিদপ্তর নিয়ে যায়। পরে যশোর মহিলা অধিদপ্তর থেকে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জেলা প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ওই কিশোরীর পরিবারকে উদ্ধার হওয়ার খবর দেয়া হয়।

ওই কিশোরীর পরিবার জানায়, সদর উপজেলার একটি গ্রামের ভ্যান চালকের মেয়ে ওই কিশোরী। তার মা প্রবাসে থাকায় বাবার সাথেই মেয়েটি বাস করত। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ে। ছয় মাস আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাজহারুল নামে এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে প্রেম করে বিয়ে করেন। চার মাস সংসার করার পর প্রতারিত হয়েছে এমন ভেবে তাকে ছেড়ে চলে আসেন।
এরপর এক মাস আগে ফেসবুকে যশোরের এমডি শিহাব খান নামের এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক হয়। রোববার ওই শিহাব খান কিশোরীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যশোর যেতে বলেন।

কিশোরী সোমবার দুপুরে একটি মোটরসাইকেল ভাড়ায় নিয়ে রাত নয়টায় যশোর পৌঁছে। সেখানে অপেক্ষারত ওই যুবক তাকে মনিহার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যায়। কিন্তু কিশোরী হোটেলে থাকতে অনীহা প্রকাশ করে। তখন তাকে শহরের একটি বস্তিতে এক নারীর কাছে রাখা হয়। রাতেই তার কাছে থাকা তিন হাজার টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়।

এরপর ভোর রাত ৪টার দিকে ওই কিশোরীকে নেয়া হয় চাষড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ওই বাসস্ট্যান্ড থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বাস চলাচল করে।

সম্প্রতি ভারতে নারী পাচারের বিভিন্ন ঘটনা দেশে আলোচিত হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসন, নারী ও শিশু পাচার রোধে কাজ করা এনজিওগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতের রুটগুলোতে।

ওই কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা যুবক তাকে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি নজরে আসে যশোরের বেসরকারি সংস্থা অপারেশন জেনারেশনের মাঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনিতা সরকারের। তিনি তখন ওই কিশোরীর সাথে কথা বলেন। কিশোরী তাকে সব ঘটনা জানায়। ততক্ষণে ওই যুবক সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিশোরীকে উদ্ধার করে সকাল ১০টায় নেওয়া হয় যশোর মহিলা অধিদপ্তর কার্যালয়ে।

মুঠোফোন ওই কিশোরী বলেন, এক মাস আগে এমডি শিহাব খান নামের এক আইডিতে ফেসবুকে পরিচয় হয়। প্রতিদিন কথা হত। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাই পালিয়ে যশোর এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি আমাকে পাচারের জন্য ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ পাতা হয়েছিল।

কিশোরীর বাবা বলেন, আমি গরিব মানুষ। দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছোট মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকি। কীভাবে কি হয়েছে বুঝতে পারছি না। সোমবার দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখি মেয়ে নেই। তাকে ফোন করলে ফোন বন্ধ পাই। তার সাবেক স্বামীকে ফোন দিয়ে জানতে পারি সেখানেও যায়নি। তখন খুব চিন্তায় পড়ে যাই। আজ ডিসি অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি পাচারকালে মেয়ে যশোরে উদ্ধার হয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা অপারেশন জেনারেশনের মাঠ তদন্ত কর্মকর্তা সুনিতা সরকার বলেন, মেয়েটির ভাগ্য ভালো আমাদের নজরে পড়েছিল। তা না হলে ভারতে পাচার করা হত। যে চক্র তাকে যশোর এনেছিল তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, কিশোরী যশোরে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। তাকে উদ্ধার করার তথ্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!