আজ মঙ্গলবার| ১৭ মে, ২০২২| ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯

দক্ষিন তারাবুনিয়ার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ, আসলে কি ঘটেছিল !

শুক্রবার, ০১ মে ২০২০ | ৪:১৮ অপরাহ্ণ | 2700 বার

দক্ষিন তারাবুনিয়ার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ, আসলে কি ঘটেছিল !

শরীয়তপুরের সখিপুর থানাধীন চরাঞ্চল দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজালাল মালের বিরুদ্ধে মোশাররফ মোল্যা নামে এক ব্যাক্তিকে অন্যায়ভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মোশাররফ মোল্যা বিভিন্ন গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার নিজের জমিতে কাজ করতে বাঁধা দিয়েছিল চেয়ারম্যান শাহাজাল মাল, আর কথা অমান্য করায় তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছেন ঐ চেয়ারম্যান। শাহাজালাল মালের এক ভাই মিন্টু মোল্যা তার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ্য করেছেন তিনি। সর্বোপেরি তিনি দাবি করেছেন জমিটির মালিক তিনি নিজেই। তিনি অন্যকারো জমিতে ঘর তুলেনি।

Advertisements

জমি-জমা নিয়ে সেখানে কি চলছিল,কি বলছে স্থানীয়রা!!

Advertisements

জমি নিয়ে দ্বন্ধ চরাঞ্চলের একটি নিয়মিত ঘটনা। স্থানীয়দের মতে প্রতিদিনই সখিপুরের চরাঞ্চলে কোথাও না কোথাও জমি নিয়ে দ্বন্ধ হয়েই থাকে।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিন তারাবুনিয়ার শেখ মোল্যার কান্দির বাসিন্দা মৃত কালাচান মোল্যার ওয়ারিশদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে প্রায় ১৫টিরও বেশী সালিশ-দরবার হয়েছে এ জমি নিয়ে। কিন্তু কোন সমাধান হয় নি। কালাচান মোল্যার ৬ জন ছেলে (হোসেন মোল্যা, ইমাম মোল্যা, কামাল মোল্যা, লতিফ মোল্যা, কাশেম মোল্যা, মোশাররফ মোল্যা) ও তিন মেয়ে রয়েছে। এদের মধ্যে মোশাররফ মোল্যা ও ইমান মোল্যা অন্যতম। আর মোশাররফ মোল্যার সাথে জমি নিয়ে যার দ্বন্ধ চলছে তিনি হচ্ছেন ইমান মোল্যার ছেলে শাহা মোল্যা।
অথাৎ তারা সম্পর্কে আপন চাচা ভাতিজা।

Advertisements

ইউসুফ মোল্যা বলেন, যে জমিটি নিয়ে দ্বন্ধ চলছে সেটি ১০৬ নং চর তারাবুনিয়া মৌজার এস খতিয়ান-৬৯৮, দাগ – ১১৬১১। বিআরএস খতিয়ান-১৭০ – দাগ ১৬৫০০, ১৬৬০০।

Advertisements

শরীয়তপুর জেলা জজকোর্ট এর একজন আইনজীবী লুৎফর রহমান ঢালী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে শাহা মোল্যা গংদের জমি-জমা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, যে জমিটি নিয়ে দ্বন্ধ চলছে তার ওপর বর্তমানেও ২টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি বন্টন মামলা অন্যতম, যেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। বর্তমানে মোশাররফ মোল্যা ঐ মামলাটি মোকাবেলাও করছে। যা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ঐসব জমিতে কোন প্রকার কাজ করার বৈধতা নেই। এ বিবেচনায় মোশাররফ মোল্যা যা করেছেন তা আইন লঙ্ঘন করে করেছেন।

Advertisements

কি বলছে শাহা মোল্যার পরিবার!!

Advertisements

শাহা মোল্যা অথাৎ যার সাথে মোশারফ মোল্যার জমিসংক্রান্ত দ্বন্ধ চলছে। শাহা মোল্যার ভাই সেকান্তর মোল্যা বলেন, শাহা মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। নিজের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ৩২০ শতাংশ জমির পাশাপাশি, পাঁচ বছর আগে তার তিন ফুফুর কাছ থেকে ১১০ শতাংশ এবং ৮ বছর আগে লতিফ মোল্যা নামে এক চাচার কাছ থেকে আরো ২০ শতাংশ জমি কিনেছিলেন তিনি। যার বেশীর ভাগ জমিই বুঝিয়ে দেয়া হয় নি।

Advertisements

“আমার চাচা মোশাররফ মোল্যা সপরিবারে থাকতেন পাকিস্তানে। আনুমানিক পাঁচ বছর আগে মোশারফ মোল্যা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ঐ সময় নিজের জমির (ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া) বিষয়ে কোন ধারনা ছিলনা মোশাররফ মোল্যার।

Advertisements

তিনি বলেন, ঐ সময় শাহা মোল্যার অনুপস্থিতিতে তার জমি দখল করার চেষ্টা করে মোশাররফ মোল্যা। কিন্তু পারেনি। পরে জমি থেকে শাহা মোল্যার ৭৫টি গাছও কেঁটে ফেলেন তিনি। বিপরীতে মামলাও হয়েছিল এবং জেলেও গিয়েছিলেন। পরিশেষে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বিবেচনা করে ঐ সময় মামলা তুলে নিয়েছিলাম আমরা।
কিন্তু জমিটি গত ২০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি আমরা। কয়েক লক্ষ টাকার বালি ভরাট করেছি। আমার এক প্রতিবন্ধী বোন সেখানে থাকতো। হঠাৎ গত তিন মাস আগে মোশাররফ মোল্যা তার ছেলে ও ভাতিজাদের নিয়ে জোরপূর্ক জমিটি দখলে নিয়ে আরো ১০টি গাছ কেটে ফেলে এবং আমার প্রতিবন্ধী বোনকে মারধর করে। কিছুদিন ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে পাকা ভবন নির্মান শুরু করে তারা।

Advertisements

আমার ভাই শাহা মোল্যা প্রবাসে থাকায় আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাজালাল মালের কাছে ভবন নির্মানের বিষয়ে মোশাররফ মোল্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। ঘটনাটি মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত চেয়ারম্যান মোশাররফ মোল্যাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলে, এসময় চেয়ারম্যানের সাথে উল্টো খারপ ব্যবহার করে তারাবলছিলেন শাহা মোল্যার ভাই সেকান্তর মোল্যা।

Advertisements

ঐদিন কি ঘটেছিল চেয়ারম্যান শাহাজালাল মালের সাথে!

Advertisements

প্রত্যাক্ষদর্শী আলী দফাদার বলেন, শাহা মোল্যার অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান শাহাজাল মাল ঘটনা স্থালে আমাকে পাঠনোর পর আমি মোশাররফ মোল্যাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলি। এসময় তাদের উশৃঙ্খল ব্যবহারের কারনে আমি চেয়ারম্যানেকে ফোন দিই। পরে চেয়ারম্যান ঘটনা স্থলে আসলে তাকেও সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মোশাররফ মোল্যা ও তার ছেলেরা। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন খুব ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। পরে ক্ষিপ্ত জনগনের কাছ থেকে মোশাররফ মোল্যাকে উদ্ধার করে পরিষদে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান। সেখান চেয়াম্যানের লোকজন তাকে কয়েকটি চড় থাপ্পর মারে ও লাঠি দিয়ে কয়েকটি পিটিয়ে দেয়।

Advertisements

আর দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমম্যান শাহাজালাল মাল বলেন, একজনের জমি জোরকরে দখল করা হচ্ছে, একাধিকবার এমন অভিযোগ পেয়ে আমি সেখানে চৌকিদার পাঠানোর পর মোশারফ মোল্যা ও তার ছেলেরা চৌকিদারকে গালিগালাজ করে এবং মারধর করতে তেড়ে আসে। পরে বিষয়টি শুনে আমি সেখানে উপস্থিত হলে, আমার সাথেও একই কান্ড ঘটায় তারা। গালিগালাজের সাথে সাথে, আমাকে বল, “জমি কি আমার বাবার কিনা”!! এ সময় আমাদের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পড়লে মোশাররফকে উদ্ধার করে আমি পরিষদে নিয়ে আসি। সেখানে উত্তেজিত লোকজন তাকে লাঠি দিয়ে কয়েকটা আঘাত করে। তিনি বলেন, অন্যর জমি জোরপূর্ক দখল করতে বাঁধা দেয়ার কারনেই আমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এবং আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছে মোশাররফ মোল্যা। এখানে আমার প্রতিপক্ষের লোকজনেরও ইন্ধন রয়েছে। তারা চাচ্ছে কিভাবে আমার সম্মানহানি করা যায়।

Advertisements

এ বিষয়ে কি বলছে সখিপুর থানা পুলিশ!

Advertisements

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, এলাকায় কেউ কারো জমি জোরপূর্ক দখল করতে চাইলে, আর সে অভিযোগ যদি চেয়ারম্যানের কাছে আসে, সেখানে অবশ্যই একজন চেয়ারম্যান হস্তক্ষেপ করতে পারে। ঐ সময় মূল্যত চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করার কারনেই ঘটনাটি ঘটেছে। যাইহোক দুই পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে।

Advertisements
Advertisements

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!