আজ শুক্রবার| ২০ মে, ২০২২| ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯

করোনার লক্ষণ, সখিপুরে সেই যুবকের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০ | ১০:৩০ অপরাহ্ণ | 4115 বার

করোনার লক্ষণ, সখিপুরে সেই যুবকের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ

গলা ব্যথা, ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, বমি এবং পাতলা পায়খানা এক কথায় করোনা আক্রান্তের স্বাভাবিক সব লক্ষণ দেখা দিয়েছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মনির মান্দের (৩০)। মনির মান্দ সখিপুর ইউনিয়নের মল্লিক কান্দির বাসিন্দা শহিদুল্লাহ মান্দের ছেলে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এ যুবকের মাঝে লক্ষণগুলো দেখা দেয়ার পর থেকেই সকলে তাকে এড়িয়ে চলছে। কয়েক দফা চিকিৎসক আসলেও তাদের কাছে যায়নি এসব চিকিৎসকরা। পরে স্থানীয় সাংসদ ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের তৎপরতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে আরো একদল চিকিৎসক এসে তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

Advertisements

তবে মনির হোসেনের দাবি, লক্ষণ দেখা দিলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে সে। করোনা ভাইরাসে সে আক্রান্ত হয় নি। আর মনির হোসেনের পরিবারের লোকজন বলছে, “মনির যদি করোনায় আক্রান্ত হয়েই থাকে দ্রুত যেন তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়”।

Advertisements

মঙ্গলবার সকালে নিরাপদ দুরত্বে থেকে কথা হয় মনির হোসেনের সাথে। ঘরের জানালা দিয়ে এ সময় মনির হোসেন বলেন, গত শনিবার কাজে থেকে ফিরে আসার পর আমার শরীর খারাপ হতে থাকে। এ সময় ঠান্ডা, কাশি ও জ্বর দেখা দেয়। পরে স্থানীয় সবাই আমার করোনা হয়েছে বলে আলাদা থাকতে বলে। এখন আমি এক ঘরে হয়ে আছি। আমি গরুর ব্যবসায়ীদের সাথে কাজ করতাম। সরকারিভাবে রবিবার একবার ডাক্তার এসেছিল, কিন্তু তারা কেউ আমার কাছে আসেনি। দূর থেকে কথা বলে চলে গেছে। পরে সোমবারও কয়েকজন ডাক্তার এসে তারাও দূর থেকে চলে গেছে, কাছে আসে নি। পরীক্ষা ছাড়া আমি কিভাবে বুঝবো আমার করোনা হয়েছে!! সর্বশেষ মঙ্গলবার ডাক্তার এসে আমার শরীর ও জিহ্বা থেকে নমুনা নিয়ে গেছে। আমি দিনে আনি দিনে খাই। কিন্তু এখন কাজ করতে যেতে পারছি না। আমার একটা ছোট বাচ্চা আছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দা ইকতারুল সরকার ও আজহারুল মিয়া বলেন, ডাক্তার আসে ডাক্তার যায়। কেউ মনিরের কাছেও যায় না। তবে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে একদল ডাক্তার এসে তার কাছ থেকে নমুনা নিয়ে গেছে। আমরা তাকে বাজার করে দিয়ে আসি। এক কথায় তাকে নিয়ে আমাদের পুরো এলাকা আতঙ্কে আছে। আমরা চাই অন্তত চিকিৎসার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক তার করোনা হয়েছে কিনা।

Advertisements

সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদার বলেন, অসহায় মনিরের মাঝে করোনার লক্ষণ গুলো দেখা দেয়ার পর থেকেই সে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। আমাদের নেতা পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রীর নির্দেশে এ পরিবারটির জন্য আমরা নগদ অর্থ, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি। তার তৎপরতা ও সহযোগীতায় মনিরের চিকিৎসা সকল ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

Advertisements

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব তানভীর আল নাসীফ বলেন, সার্বক্ষনিক মনির হোসেনের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। মেডিকেল টিম কাজ করছে। তাকে যেন ঘর থেকে বের হতে না হয়, সেজন্যে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে

Advertisements

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন জনাব আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, মনির হোসেনকে আমরা সার্বক্ষনিক তদারকিতে রেখেছি। বিষয়টি ঢাকায় আইডিসিআরে জানানো হয়েছে, তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Advertisements
Advertisements

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা
error: কপি করা নিষেধ !!